ঈদে মিলাদুন্নবী (দরূদ) সম্পূর্ণ যায়েয
——————————————
মুহাম্মদ সাজ্জাদ হোসাইন সিরাজী
=====================
ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপনে বিরোদ্ধবাদীদের আপত্তি-দলিল নাও:-
নবীজি ১২ রবিউল আউয়াল রোজ সোমবার এই দুনিয়ায় শুভাগমন করেছেন আবার ১২ রবিউল আউয়াল রোজ সোমবার দুনিয়া থেকে বিদায়ও নিয়েছেন। সুতরাং ঐদিন নবীজির বিরহে শোক পালন করা যুক্তিযুক্ত নয় কি?
জবাব:
১। ইসলামে কারো ইন্তিকালে তিন দিনের বেশি শোক পালন জায়েয নেই। তিন দিনের পর শোক নেই বরং আছে স্মরণ। যেমন হাদিস শরীফে ইরশাদ হয়েছে, “আমাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে যে আমরা যেন কারো ইন্তিকালের তিন দিন পর আর শোক প্রকাশ না করি। স্বামীর মৃত্যুতে স্ত্রী চার মাস দশ দিন শোক পালন করতে পারবে।
[বোখারী শরিফ, মুসলিম শরিফ, নাসায়ী শরীফ, তিরমিযী শরিফ, আবু দাউদ শরিফ, মিশকাত শরিফ]
সুতরাং শরীয়তে তিন দিনের বেশি শোক পালন হারাম বিধায় ১২ রবিউল আউয়াল আমরা ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপনের মাধ্যমে নিয়ামতের শোকরিয়া আদায় করি।
২। আল্লাহর রহমত ও অনুগ্রহ প্রাপ্তিতে আনন্দ প্রকাশ করার কথা সুরা ইউনুসের ৫৮ নং আয়াতের এবং নেয়ামত প্রাপ্তির দিনকে ঈদ হিসাবে উদযাপনের দৃষ্টান্তও সুরা মায়েদার ১১৪ নং আয়াতে রয়েছে। মানুষ তখনই দু:খবোধ করে যখন প্রাপ্ত নিয়ামত চলে যায়। কিন্তু হাদিস শরিফে ইরশাদ হচ্ছে, ” হায়াতি খাইরুল লাকুম ওয়া মামাতি খাইরুল লাকুম” আমার জীবিত থাকা যেমন তোমাদের জন্য কল্যাণকর আমার ইন্তিকালও তোমাদের জন্য কল্যাণকর।” [কানযুল উম্মাল, শিফা শরীফ]
নবীজি রহমত হিসাবে সৃজিত হয়েছেন, রহমত হিসাবে দুনিয়ায় শুভাগমন করেছেন এখনও রহমত হিসাবেই রওজায়ে আকদাসে আরাম করতেছেন আর উম্মতের জন্য মাগফিরাতের দোয়ায় রত আছেন। যেহেতু উনার রহমতের স্থায়িত্ব রয়েছে, সেহেতু রহমত প্রাপ্তিতে ঈদও স্থায়ী থাকবে। অপরদিকে, শোক যেহেতু ইন্তিকালের তিন দিন পর হারাম, তাই আমরা শোক করি না বরং স্থায়ী ঈদ উদযাপন করি।
৩। জুমাবার সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ ঈদ দিন। কারণ ঐ দিন হযরত আদম আলাইহি সালামকে সৃষ্টি করা হয়েছে এবং ঐ দিনই উনার ওফাত হয়েছে। এতদসত্ত্বেও, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমার দিনকে ঈদের দিন ঘোষণা করেছে। নবীজি ইরশাদ করেছেন,
ان هذا يوم عيد جعله الله للمسلمين
অর্থাৎ এটাকে (জুমার দিনকে) আল্লাহ তা’আলা মুসলমানদের জন্য ঈদের দিন হিসাবে সাব্যস্থ করেছেন।
[সুনানে ইবনে মাজাহ]
বুঝাগেল নবীদের জন্মদিন এবং ওফাতের দিন, উভয় দিন ঈদের দিন।(শোক শুধু ইন্তিকালের তিনটি দিন পর্যন্ত)।
৪। মহান আল্লাহ তায়ালা ঈসা আলাইহিস সালাম এর জন্ম দিবস উদযাপন করেছেন সালাম দিয়ে। শুধু তাই নই যে দিন তিনি ইন্তিকাল করবেন ঐ দিনও সালামের মাধ্যমে উদযাপন করবেন বলে ঘোষনা দিয়েছেন। আল্লাহ বলেন,
وأسلام على يوم ولدت ويوم أموت ويوم أبعث حيا
অর্থাৎ(ঈসা আলাইহিস সালাম বলেন) আমার প্রতি (আল্লাহর) সালাম যে দিন আমি জন্মগ্রহণ করেছি, যে দিন আমি মৃত্যুবরণ করব এবং যে দিন পুনরুজ্জীবিত হয়ে উত্থিত হব।
[সুরা মরিয়াম – ৩৩]
তাই আমরা আল্লাহর সুন্নত অনুসারে আমাদের আক্বা ও মাওলা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্ম দিবস এবং ওফাত দিবস দরুদ সালামের মাধ্যমে জুলুস করে উদযাপন করিয়ে যা ঈদের মিলাদুন্নবী নামে সর্বাধিক পরিচিত।
৫। আমাদের নবী হায়তুন্নবী। তাঁর ইন্তিকাল আল্লাহর কানুনের অনুসরণ মাত্র। হাদিস শরিফে, “যে আমাকে স্বপ্নে দেখবে, সে ইন্তিকালের আগে আমাকে জাগ্রত অবস্থায়ও দেখবে।কেননা শয়তান আমার আকৃতি ধারণ করতে পারে না।”
এই হাদিস শরিফ হতে বুঝা যায়, নবীজি হায়তুন্নবী এবং হাজির নাজির। অধিকন্তু সুরা বাকারা ১৫৪ নং আয়াতে শহিদদের জীবিত বলে ঘোষণা দিয়েছেন মহান আল্লাহ তা’য়ালা। শুধু তাই নয়,তাঁদের মৃত বলে ধারনা করাকেও হারাম করে দিয়েছে। আর নবীর শান তো শহিদদের অনেক
উর্ধ্বে। সুতরাং আমারা কেনই বা শোক পালন করতে যাব?